ব্যস্ত জীবন, কর্মক্ষেত্রের চাপ এবং অনলাইননির্ভর দৈনন্দিন রুটিনে মানুষের স্নায়ুতন্ত্র ক্রমেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, দীর্ঘদিন মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে শুধু মন নয়, শরীরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের কিছু সহজ অভ্যাসের মাধ্যমে স্নায়ু শিথিল রাখা এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের শরীরে দুটি প্রধান স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র কাজ করে, সিমপ্যাথেটিক ও প্যারাসিমপ্যাথেটিক। প্রথমটি শরীরকে সতর্ক ও সক্রিয় রাখে, আর দ্বিতীয়টি শরীরকে শান্ত হতে সাহায্য করে। কিন্তু আধুনিক জীবনের অনবরত চাপ প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রকে দুর্বল করে দেয়। ফলে উদ্বেগ, অনিদ্রা, মাথাব্যথা, হজমের সমস্যা এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো জটিলতা বাড়তে থাকে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্নায়ুকে শান্ত রাখার জন্য বড় কোনো পরিবর্তন নয়, বরং ছোট ছোট নিয়মিত অভ্যাসই সবচেয়ে কার্যকর। প্রতিদিনের জীবনে কিছু সহজ চর্চা শরীর ও মনের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়া প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় করার অন্যতম কার্যকর উপায়। দিনে কয়েকবার অন্তত পাঁচ মিনিট করে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করলে হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক হয় এবং মানসিক চাপ কমতে শুরু করে। বিশেষ করে উদ্বেগের মুহূর্তে এটি দ্রুত কাজ করে।
অপর্যাপ্ত ঘুম স্নায়ুতন্ত্রকে অতিরিক্ত সংবেদনশীল করে তোলে। ফলে ছোট বিষয়েও বিরক্তি, অস্থিরতা বা ক্লান্তি বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা বিশ্রাম নেওয়া স্নায়ুর জন্য অত্যন্ত জরুরি। ঘুমের আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার কমানোর পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
গবেষণায় দেখা গেছে, সবুজ পরিবেশ মানুষের মানসিক চাপ কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। পার্কে হাঁটা, গাছপালার পাশে কিছু সময় বসে থাকা কিংবা সকালের রোদে অল্প হাঁটাহাঁটি স্নায়ুকে শান্ত করতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ মস্তিষ্কে প্রশান্তির অনুভূতি তৈরি করে।
নিয়মিত ব্যায়াম শুধু শরীর নয়, স্নায়ুতন্ত্রের জন্যও উপকারী। দ্রুত হাঁটা, যোগব্যায়াম বা হালকা স্ট্রেচিং শরীরে “ফিল গুড” হরমোনের নিঃসরণ বাড়ায়। এতে উদ্বেগ ও মানসিক চাপ ধীরে ধীরে কমে আসে। প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট শরীরচর্চার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
সারাক্ষণ ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা খবরের চাপে থাকলে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে নির্দিষ্ট সময় মোবাইল ও স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ঘুমের আগে ডিজিটাল ডিভাইস এড়িয়ে চলা স্নায়ুকে শিথিল করতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব লক্ষণ দীর্ঘদিন থাকলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।