মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে বুধবারই এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে।
একই সময়ে ইরান ও ওমানও প্রণালিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করতে একটি সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে শুধু জাহাজ চলাচলই নয়, অঞ্চলজুড়ে চলমান সামরিক উত্তেজনা কমাতেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের এই রুট কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং বিভিন্ন দেশে নিত্যপণ্যের দামও বেড়ে যায়।
মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং বুধবার অথবা তার পরের দিনই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
সম্ভাব্য সমঝোতার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৪৩ ডলারে নেমে আসে।
আলোচনার সঙ্গে যুক্ত আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজ ইরানের নিয়ন্ত্রিত নৌপথ ব্যবহার করবে এবং বের হবে ওমানের নিয়ন্ত্রিত রুট দিয়ে। নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষার জন্য নির্দিষ্ট সেবা ফিও আরোপ করা হতে পারে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন আগেই জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে চলে যায়—এমন কোনো চুক্তি তারা সমর্থন করবে না। সম্প্রতি ট্রাম্পও স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রণালিতে টোল আরোপের পক্ষেও তিনি নন।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে এমন একটি কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে, যা উভয় দেশের সার্বভৌম অধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেবে। আলোচনা শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি বলেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তার মতে, আজ অথবা আগামীকালের মধ্যেই প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বিষয়ে একটি চুক্তি হতে পারে।
এদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করাই বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে। তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের আলোচনা কেবল ওমানের সঙ্গেই চলছে।