মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝেও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বস্তির বার্তা এসেছে। আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে। এর আগে নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে আরাকচি জানান, লেবানন পরিস্থিতিতে চলমান যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে নির্ধারিত সমন্বিত রুট মেনে সব বাণিজ্যিক জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করেন, ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আপাতত যুদ্ধবিরতির সময়সীমা পর্যন্ত এটি বহাল থাকবে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হওয়ায় হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্তই আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলে। ফলে এই ঘোষণাকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এর পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপট। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়। টানা ৩৯ দিনের সংঘর্ষ শেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
পরবর্তীতে ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদ-এ দুই পক্ষের বৈঠক হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে অগ্রগতি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রতিনিধি দলে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ।
এদিকে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২৬ হাজারেরও বেশি। একই সময়ে মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারায় ১৬৮ শিক্ষার্থী—যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে।