দিনভর উৎসব, রঙ, গান আর মানুষের উচ্ছ্বাসে মুখর ছিল রাজধানী। কিন্তু পহেলা বৈশাখের আনন্দযজ্ঞ স্তিমিত হতেই ঢাকার নানা প্রান্তে ফুটে উঠেছে এক পরিচিত দৃশ্য। রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্যাকেট, কাগজের থালা, পানির বোতল আর নানা ধরনের আবর্জনা।
চারুকলা, শাহবাগ, রবীন্দ্র সরোবর, আগারগাঁও, রমনা পার্ক, টিএসসি ও আশপাশের এলাকা। যেখানে দিনভর মানুষের ঢল নেমেছিল, সন্ধ্যা গড়াতেই সেসব স্থান পরিণত হয় অস্থায়ী বর্জ্যের স্তূপে।
উৎসবপ্রেমীদের ফেলে যাওয়া ময়লায় ঢেকে যায় ফুটপাত, সড়ক ও খোলা প্রাঙ্গণ।
প্রতি বছরই পহেলা বৈশাখের পর রাজধানীর একই চিত্র সামনে আসে। নগরবিদদের মতে, উৎসব আয়োজন যত বড় হচ্ছে, তত বাড়ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চাপও। তবে নাগরিক সচেতনতা না বাড়লে শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছে, বৈশাখকে কেন্দ্র করে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে এবং উৎসবস্থলগুলো দ্রুত পরিষ্কার করতে অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী মোতায়েন রাখা হয়েছে।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে তারা নিয়মিত বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছে।
অন্যদিকে নগরবাসীর একটি অংশের অভিযোগ, পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হলেও অনেক জায়গায় রাত পর্যন্ত আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। অতীতের বিভিন্ন বড় আয়োজনের পরও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে নগরজুড়ে বর্জ্য পড়ে থাকার বিষয়ে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, উৎসবের সৌন্দর্য শুধু আয়োজনেই নয়, সেটি শেষে নগরকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে রাখার সংস্কৃতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিক দায়িত্ববোধ ছাড়া পরিচ্ছন্ন নগর গড়া সম্ভব নয়।
বৈশাখের রঙিন উৎসব শেষ হলেও তাই প্রশ্ন থেকে যায়, আমরা কি শুধু উৎসব করতে শিখছি, নাকি উৎসবের পর শহরটাকেও নিজের বলে ভাবতে শিখছি?