ক্যালেন্ডারের হিসেবে একটা দিবস। কিন্তু বাস্তবে, এটা সেই মানুষটার কথা মনে করার দিন, যিনি কখনো নিজের জন্য আলাদা কোনো দিন চাননি।
মা মানে শুধু জন্মদাত্রী নন। মা মানে ভোরবেলা ঘুম ভাঙার আগেই রান্নাঘরে জ্বলে ওঠা আলো। অসুস্থ সন্তানের পাশে নির্ঘুম রাত। নিজের নতুন কাপড় বাদ দিয়ে সন্তানের জন্য ঈদের জামা কেনা। হাজার কষ্ট লুকিয়ে “আমি ভালো আছি” বলা এক অদ্ভুত শক্তির নাম।
প্রযুক্তির এই ব্যস্ত সময়ে মানুষ এখন আগের চেয়ে বেশি সংযুক্ত, অথচ অনেক দূরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মা দিবসের ছবি, স্ট্যাটাস আর শুভেচ্ছার ভিড়ে একটা প্রশ্ন বারবার সামনে আসে, শেষ কবে মায়ের পাশে বসে গল্প করা হয়েছে? শেষ কবে বলা হয়েছে, “মা, তুমি কেমন আছো?”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবারের আবেগিক বন্ধন ধরে রাখতে মায়ের ভূমিকা এখনো সবচেয়ে বড়। সন্তান বড় হয়ে গেলে অনেক সম্পর্ক বদলে যায়, কিন্তু মায়ের অপেক্ষা বদলায় না। রাত যতই হোক, সন্তানের ফেরার শব্দ শুনলেই দরজা খুলে দাঁড়ানো মানুষটির নামই মা।
শহরের ব্যস্ততা হোক কিংবা গ্রামের উঠোন, বাংলাদেশের অসংখ্য মা প্রতিদিন নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছেন। কেউ গার্মেন্টসে কাজ করেন, কেউ মাঠে, কেউ বাসাবাড়িতে, আবার কেউ সংসারের অদৃশ্য শ্রমিক হয়েই কাটিয়ে দেন পুরো জীবন। অথচ তাদের গল্প খুব কমই শিরোনাম হয়।
এদিকে আজ মা দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা সভা, সম্মাননা অনুষ্ঠান এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে মাকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ।
তবে মা দিবসের সবচেয়ে বড় উদযাপন হয়তো কোনো অনুষ্ঠান নয়। হয়তো একটা ফোনকল। হয়তো মায়ের পাশে একটু সময় বসে থাকা। কিংবা বহুদিন পর বলা,
“মা, তোমাকে ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ।