জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির আঁচ এবার সরাসরি লাগল সাধারণ মানুষের পকেটে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীসহ আন্তজেলা রুটে বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে খোদ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এই নতুন ভাড়া নির্ধারণের ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রেক্ষিতে দেশেও তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। আর তারই ধারাবাহিকতায় পরিবহন মালিকদের দাবির মুখে বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ করতে বাধ্য হয়েছে সরকার।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, কোনো সময় না দিয়েই মন্ত্রী জানিয়েছেন, এই নতুন ভাড়া আজ থেকেই কার্যকর হবে। ফলে হঠাৎ করে বাড়তি ভাড়া গুনতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা, বিশেষ করে যারা অফিস শেষে বাড়ি ফিরছেন।
পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী বাসের ভাড়া যেমন বেড়েছে, তেমনি দূরপাল্লার বা আন্তজেলা বাসের ক্ষেত্রেও একই হারে ভাড়া বৃদ্ধি প্রযোজ্য হবে। যদিও ১১ পয়সা শুনতে খুব সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ পথযাত্রায় এই অঙ্কটি যাত্রীদের জন্য বেশ বড় হয়ে দাঁড়াবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে, ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন পরিচালনা ব্যয় বেড়েছে। তবে যাত্রী অধিকার রক্ষা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর দাবি, ভাড়ার এই সামান্য বৃদ্ধিকে পুঁজি করে একশ্রেণির অসাধু পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা যাত্রীদের কাছ থেকে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, "আমরা চাই না সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি হোক। কিন্তু বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আমরা ভাড়া সমন্বয়ে বাধ্য হয়েছি। তবে আমরা নজর রাখব যাতে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক পয়সাও বেশি কেউ নিতে না পারে।"
তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। প্রতিবার ভাড়া বাড়ানোর পর 'সমন্বয়'-এর দোহাই দিয়ে পরিবহন শ্রমিকরা বাড়তি টাকা আদায় করেন। বিশেষ করে রাজধানীর সিটিং সার্ভিস বা গেটলক সার্ভিসের নামে যে বিশৃঙ্খলা চলে, তাতে ১১ পয়সার হিসাব অনেক ক্ষেত্রে ১ থেকে ৫ টাকায় গিয়ে ঠেকে।