ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষের পথে, আর ঠিক এই সময়েই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থলবাহিনী পাঠানোর গুঞ্জন তীব্র হচ্ছে। দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে আবারও অস্থিরতার ছায়া ঘন হচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, এর মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে ‘বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড’ অর্থাৎ মার্কিন স্থলবাহিনী সরাসরি ইরানের মাটিতে মোতায়েনের সম্ভাবনা, নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
গত ৮ এপ্রিল শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে শুরু করে। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এই পদক্ষেপকে অনেক বিশ্লেষক কেবল প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন না, বরং সম্ভাব্য আক্রমণের পূর্বাভাস হিসেবেও বিবেচনা করছেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শেষ নাগাদ ১০ হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলী ভায়েজের মতে, “প্রেসিডেন্ট কী বলছেন তা নয়, তিনি বাস্তবে কী করছেন সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।” তার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, অতীতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় আকারে সামরিক শক্তি মোতায়েন করলে তা ব্যবহারের প্রবণতা দেখিয়েছেন। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থল অভিযান অস্বীকার করা যাচ্ছে না।
তবে বিষয়টি আরও জটিল করে তুলছে ট্রাম্পের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক অবস্থান। তিনি একাধিকবার মধ্যপ্রাচ্যের “চিরস্থায়ী যুদ্ধ” থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান সামরিক প্রস্তুতি সেই অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতির প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। যদিও তারা সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে দেশটির সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে প্রস্তুতি জোরদার করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সামান্য ভুল হিসাবও বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে, এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা এই প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে কূটনৈতিক অচলাবস্থা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস এই আলোচনার সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আলোচনার টেবিলে ফেরার পথ যত সংকুচিত হবে, সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি তত বাড়বে।
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি একটি ‘টিপিং পয়েন্ট’-এ দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে কূটনৈতিক সমাধান কিংবা সামরিক সংঘাত, দুই সম্ভাবনাই সমানভাবে উপস্থিত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা এখানেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।