রাজধানীর বাজারগুলোতে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে নিত্যপণ্যের দাম। ডিম, পেঁয়াজ ও আদার মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে সবজির বাজারও। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ব্যবসায়ীদের একাংশ বাজারে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।
শুক্রবার (১৫ মে) ঢাকার বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। বর্তমানে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়, যা কয়েকদিন আগেও ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। একইভাবে আদার দামও বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা। বাজারে এখন প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায়।
ব্যবসায়ীদের দাবি, ঈদ সামনে থাকায় চাহিদা বাড়ছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, মধ্যস্বত্বভোগী ও অসাধু সিন্ডিকেট পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। তাদের মতে, রমজানের ঈদে দাম বাড়ানোর সুযোগ না পেয়ে এখন কোরবানির ঈদকে ঘিরে নতুন করে বাজার অস্থির করার চেষ্টা চলছে।
বড় মগবাজারের এক খুচরা বিক্রেতা জানান, পাইকারি বাজারেই প্রতিদিন পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। ফলে খুচরা পর্যায়েও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে বাজারে দেশি রসুনের সরবরাহ ভালো থাকায় এ পণ্যের দাম এখনো স্থিতিশীল রয়েছে।
এদিকে ডিমের বাজারেও অস্থিরতা কাটেনি। এক মাস আগেও যে ডিমের ডজন ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন তা বেড়ে ১৫০ টাকায় পৌঁছেছে। কিছু এলাকায় ১৫৫ টাকাও নেওয়া হচ্ছে। তবে মুরগির বাজার কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায়।
সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। অধিকাংশ সবজিই এখন ৮০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৯০ থেকে ১২০ টাকা এবং ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গা, ধুন্দল ও ঝিঙে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। করলা, বরবটি ও কাকরোলের দাম আরও বেশি, কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা।
বাজারের এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। ক্রেতাদের আশঙ্কা, কার্যকর তদারকি না থাকলে ঈদের আগে নিত্যপণ্যের বাজার আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
ক্রেতা এনামুল হোসেন বলেন, নানা অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়ানো এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সরকারের কঠোর নজরদারি থাকলে ব্যবসায়ীরা এত সহজে দাম বাড়ানোর সাহস পেত না।