বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া এক তরুণের নিথর দেহ ফিরে এলো দেশে, শোক আর ক্ষোভে ভারী হয়ে উঠল পরিবারের আকাশ।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে হত্যার শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ সোমবার সকালে ঢাকায় পৌঁছেছে। সকাল ৮টা ৫৯ মিনিটে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে তার কফিন নামানো হয় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ।
এর আগে শনিবার রাতে অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহ পাঠানো হয়েছিল বলে জানিয়েছিল বাংলাদেশ দূতাবাস ওয়াশিংটন।
সকালেই বিমানবন্দরের কার্গো গেটে জড়ো হন স্বজনরা। মরদেহ বুঝে নেওয়ার পর তারা রওনা হন মাদারগঞ্জ উপজেলা-এর গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাগরিবের নামাজের পর জানাজা শেষে সেখানেই দাফন করা হবে।
বিমানবন্দরে উপস্থিত লিমনের মামা মর্তুজা শেখ জসিম বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চান তারা—যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সরকারের কাছে তাদের একটাই দাবি, দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
ছেলের মরদেহ নিতে এসে ভেঙে পড়েন বাবা ইলিয়াস হোসেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “বিদেশে পড়তে গিয়ে আর কোনো সন্তানের এমন পরিণতি যেন না হয়।” তিনি জানান, পহেলা বৈশাখেই ছিল ছেলের সঙ্গে শেষ কথা।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করা লিমন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিবিষয়ক বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
একই সময়ে নিখোঁজ হন আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। পরে ২৪ এপ্রিল একটি সেতুর কাছ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে উঠে আসে, বৃষ্টিকেও হত্যা করা হয়েছে। পরে একটি জলাশয় থেকে উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ তার বলে শনাক্ত করা হয়।
এই ঘটনায় লিমনের এক রুমমেটকে গ্রেপ্তার করে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। পরিবারের দাবি, লিমন ও বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল এবং তারা বিয়ের পরিকল্পনাও করেছিলেন।
এদিকে, বিমানবন্দরে উপস্থিত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, বৃষ্টির মরদেহও দেশে ফেরাতে কাজ করছে সরকার। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ তদন্ত শেষ করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করবে, এটাই প্রত্যাশা।