দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এখন শুধু শিল্প বা গৃহস্থালিতে সীমাবদ্ধ নেই, এবার সরাসরি চাপ পড়ছে মোবাইল নেটওয়ার্কেও। অপারেটররা সতর্ক করে বলছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে টেলিকম সেবা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন বাংলাদেশ মোবাইল টেলিযোগাযোগ অপারেটরদের সংগঠন (অ্যামটব) এক চিঠিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে জানিয়েছে, বিদ্যুৎ ঘাটতি ও জ্বালানি সংকট মিলিয়ে পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে। দেশের প্রধান তিন অপারেটর, গ্রামীণফোন, রবি এবং বাংলালিংক, তাদের নেটওয়ার্ক সচল রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।
চিঠিতে বলা হয়, টাওয়ার ও ডেটা সেন্টার চালাতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি দরকার হচ্ছে। শুধু টাওয়ার চালাতেই দৈনিক ৫২ হাজার লিটারের বেশি ডিজেল লাগে, আর ডেটা সেন্টারের জন্য প্রয়োজন হয় আরও প্রায় ২৭ হাজার লিটার। বিদ্যুৎ না থাকলে এই নির্ভরতা পুরোপুরি জেনারেটরের ওপর চলে যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, দেশের ২৭টি ডেটা সেন্টার চালু রাখতে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৪ হাজার ৪৭১ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে রবির ১০টি ডেটা সেন্টারেই লাগে ঘণ্টায় ১,৬২২ লিটার, গ্রামীণফোনের ৮টিতে ১,৮৬৪ লিটার এবং বাংলালিংকের ৮টিতে ৯৮৫ লিটার।
সমস্যা শুধু জ্বালানির ঘাটতিতে আটকে নেই। অপারেটররা জানিয়েছে, অনেক এলাকায় জ্বালানি পরিবহনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার মুখেও পড়তে হচ্ছে। ফলে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সময়মতো পৌঁছানো যাচ্ছে না।
এদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। অনেক এলাকায় প্রতিদিন ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না, আর ফিরতেও সময় লাগে। এতে ডেটা সেন্টার, সুইচিং সিস্টেম ও ট্রান্সমিশন হাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
সাম্প্রতিক ঝড়বৃষ্টিও পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে। বারবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় জেনারেটরের ব্যবহার বেড়ে গেছে, আর সেই সঙ্গে বেড়েছে জ্বালানির চাপ।
এই পরিস্থিতিতে অপারেটররা কয়েকটি জরুরি প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভা আয়োজন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা, মোবাইল টাওয়ারকে অগ্রাধিকার তালিকায় আনা, সরাসরি ডিপো থেকে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা এবং জ্বালানি পরিবহনে বাধা দূর করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া।
গ্রামীণফোনের এক কর্মকর্তা জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব এখন সরাসরি দেশের টেলিকম খাতে পড়ছে। সরকার ইতিমধ্যে কিছু সহযোগিতা করছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সেবা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।