দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত কুমিল্লার তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ফলে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
শনিবার দুপুরে তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হলে এ সিদ্ধান্ত আসে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম। তিনি জানান, রিমান্ডে থাকা অবস্থায় হাফিজুর কিছু তথ্য দিয়েছেন, তবে সেগুলো এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ কারণে বিস্তারিত কিছু জানানো সম্ভব নয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আরও জানিয়েছেন, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও দুই সাবেক সেনাসদস্যকে খোঁজা হচ্ছে। তাদের আটক করা গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানানো হবে।
এদিকে তনুর পরিবার জানিয়েছে, আদালতে তোলার বিষয়ে আগাম খবর পেলেও তারা আসামির সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তনুর ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেল বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার ফোনে তারা কারা ফটকে গেলেও ততক্ষণে আসামিকে ভেতরে নেওয়া হয়ে যায়।
এর আগে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় হাফিজুর রহমানকে। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং একই সঙ্গে তার ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়।
মামলার অগ্রগতিতে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে ডিএনএ পরীক্ষার বিষয়টি। ২০১৭ সালে তনুর পোশাক থেকে তিনজন পুরুষের ডিএনএ নমুনা পাওয়া গেলেও তা দীর্ঘদিন কারও সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। সম্প্রতি তিন সন্দেহভাজনের ডিএনএ ক্রস-ম্যাচ করার উদ্যোগ নেয় পিবিআই, যার অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো হাফিজুর রহমানের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় নিখোঁজ হওয়ার পরদিন জঙ্গলে পাওয়া যায় তনুর মরদেহ। বহু বছর ধরে বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত করলেও রহস্যের জট খুলেনি। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই।