ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি ইরান। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তেহরানের পক্ষ থেকে সাড়া না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার, যা কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক পরিসরে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ইসলামাবাদ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা ঘিরে পাকিস্তানের উদ্যোগ থাকলেও, মূল পক্ষ ইরানের নীরবতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার স্পষ্ট করে জানান, এখনো পর্যন্ত তেহরানের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, পাকিস্তান সরকার ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে এবং আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশায় রয়েছে। তবে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত বার্তা না আসায় আলোচনা আয়োজনের সময়সূচি ও সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই নীরবতা কেবল সময়ক্ষেপণ নয়, বরং একটি কৌশলগত অবস্থানও হতে পারে। সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক অত্যন্ত সংবেদনশীল। পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার, এসব ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে।
পাকিস্তান এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকায় ইসলামাবাদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান যদি এই আলোচনায় অংশ নেয়, তাহলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হতে পারে। অন্যদিকে, অংশগ্রহণ না করলে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো নতুন বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে পূর্ববর্তী আলোচনাগুলোতে ওয়াশিংটনের অবস্থান ছিল কঠোর, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করার বিষয়ে। ফলে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে দ্বিধা থাকাটাই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পাকিস্তানের জন্য এই উদ্যোগ কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং কৌশলগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিজেকে একটি নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ সফলভাবে আয়োজন করতে পারলে তা পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কূটনৈতিক আলোচনায় সময় নেওয়া অস্বাভাবিক নয়, তবে দীর্ঘ নীরবতা অনেক সময় রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে। ইরান হয়তো আলোচনার শর্ত, স্থান বা এজেন্ডা নিয়ে আরও নিশ্চয়তা চাইছে।