ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রাতভর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ৪৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা।
স্থানীয় সময় বুধবার ভোর পর্যন্ত চলা এই হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিয়েভ অঞ্চলজুড়ে। সংস্থাটির তথ্যমতে, রাজধানীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ১৪ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া কিয়েভ শহরে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন।
হামলার পর ব্রোভারি, বুচা ও ফাস্টিভ জেলার বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জরুরি সেবা কর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করেন। হাব্রোভারি শহর এবং ভেলিকা ডাইমেরকা, কভিটনেভে ও পেরেমোহা গ্রামের বড় বড় গুদামঘর আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফাস্টিভ জেলার একটি প্রতিষ্ঠানের যানবাহনে লাগা আগুনও পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। একই সঙ্গে বুচা জেলার একটি লজিস্টিকস কেন্দ্র এবং চাইকি গ্রামের আরেকটি গুদামঘরের আগুনও নেভানো হয়েছে।
কিয়েভ সিটি মিলিটারি প্রশাসন জানিয়েছে, ওবোলনস্কি, সভিয়াতোশিনস্কি, হলোসিয়িভস্কি ও দেসনিয়ানস্কি জেলাগুলোতে হামলার পর সৃষ্ট আগুন দমকল বাহিনী নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলতি গ্রীষ্মে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার বড় আকারের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সীমিত মজুত থাকায় এসব হামলা প্রতিহত করতে হিমশিম খাচ্ছে ইউক্রেন। বিশেষ করে একযোগে বিপুল সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলে সেগুলো ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্টনভ বলেন, যুদ্ধ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে শত্রুপক্ষ নির্বিচারে বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। খাদ্য গুদাম, লজিস্টিকস হাব, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নির্মাণসামগ্রীর গুদামঘরও হামলা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের অন্যতম বৃহৎ খুচরা বিক্রয় ও নির্মাণসামগ্রী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘এপিসেন্টর’। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কয়েক দশকের পরিশ্রমে গড়ে তোলা অবকাঠামো কয়েক মিনিটের হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে একজন কর্মী নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি তাদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস হাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির সিরামিক টাইলস কারখানার উৎপাদন বিভাগও সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম বিদেশে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোম্পানিটির ধারণা, এই ক্ষতি কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে।
এদিকে ইউক্রেনও পাল্টা কৌশলের অংশ হিসেবে রাশিয়ার খুচরা সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি দেশটি রাশিয়ার জনপ্রিয় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের একাধিক গুদামে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতায় চাপ সৃষ্টি এবং যুদ্ধের প্রভাব দেশটির জনগণের সামনে তুলে ধরতেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।