এপ্রিলের প্রথমভাগে গ্রহের কুচকাওয়াজ ও পূর্ণিমার পর এবার নতুন করে চমক নিয়ে হাজির হচ্ছে রাতের আকাশ। আজ শুক্রবার থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে দেখা যাবে লাইরিড উল্কাপাত ও গ্রহদের অবস্থান পরিবর্তনের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
মহাকাশপ্রেমীদের জন্য এপ্রিল মাস যেন একের পর এক চমকের পসরা সাজিয়ে বসেছে। মাসের শুরুতে একাধিক গ্রহের সারিবদ্ধ অবস্থান এবং উজ্জ্বল পূর্ণিমা দর্শকদের মুগ্ধ করার পর এবার শুরু হচ্ছে আরেক আকর্ষণীয় জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা লাইরিড উল্কাপাত (Lyrid Meteor Shower)। এই উল্কাপাত প্রতি বছর এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ঘটে এবং তা খালি চোখেই উপভোগ করা যায়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, লাইরিড উল্কাপাতের উৎস হলো থ্যাচার ধূমকেতু (Comet Thatcher), যার ধূলিকণা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করলে উল্কা হিসেবে জ্বলে ওঠে। এই উল্কাপাত সাধারণত ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সক্রিয় থাকে, তবে এর সর্বোচ্চ দৃশ্যমানতা পাওয়া যায় ২১ থেকে ২৩ এপ্রিলের মধ্যে। এই সময়ে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১০ থেকে ২০টি উল্কা দেখা যেতে পারে, যা স্বচ্ছ আকাশে দৃষ্টিনন্দন আলোর রেখা তৈরি করে।
বাংলাদেশের আকাশেও এই উল্কাপাত স্পষ্টভাবে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে শহরের আলোক দূষণ থেকে দূরে, খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করলে। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উল্কার সংখ্যা বাড়তে থাকে, যা দর্শকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
অন্যদিকে, এই সময়েই গ্রহদের অবস্থানেও লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা যাবে। বিশেষ করে শুক্র, মঙ্গল এবং বৃহস্পতি গ্রহ রাতের আকাশে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেবে। সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে শুক্রের উজ্জ্বলতা সহজেই চোখে পড়বে, আর মধ্যরাতের দিকে মঙ্গল তার লালচে আভা নিয়ে দৃশ্যমান হবে। ভোরের আগে পূর্ব আকাশে বৃহস্পতির অবস্থানও পর্যবেক্ষণযোগ্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা শুধু বিনোদনের উৎস নয়, বরং মহাকাশ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মহাকাশ বিজ্ঞানের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি চমৎকার সুযোগ।
তবে আবহাওয়া এখানে বড় একটি ভূমিকা পালন করে। আকাশ পরিষ্কার না থাকলে উল্কাপাত বা গ্রহের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই যারা এই দৃশ্য উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য পরিষ্কার আকাশ ও কম আলোযুক্ত স্থান বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এপ্রিলের শেষভাগে আকাশ যেন এক জীবন্ত প্রদর্শনীতে রূপ নিচ্ছে, যেখানে উল্কার ঝলকানি আর গ্রহের নীরব চলাচল মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে এক অপার্থিব দৃশ্য।