মধ্যপাড়া খনিতে ১২শ থেকে ১৩শ ফুট গভীর থেকে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পাথর উত্তোলন করা হয়। ভূগর্ভে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাথর তুলতে প্রতিদিন প্রায় ৩ টন এক্সপ্লোসিভ ব্যবহার করতে হয়, যা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। রাশিয়া-ইউক্রেন এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে এসব এক্সপ্লোসিভের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে।
মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সৈয়দ রফিজুল ইসলাম জানান, এই খনি ১৯৯৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে উদ্বোধন হয় এবং ২০০৭ সাল থেকে উৎপাদনে যায়। ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে টানা পাঁচ বছর খনিটি প্রায় ১০০ কোটি টাকা লাভ করে এবং ৪০ কোটি টাকা পেট্রোবাংলাকে পরিশোধ করে।
তবে ডলারের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ঠিকাদারের বিল পরিশোধে প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি খরচ হচ্ছে। এর ফলে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৭ কোটি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। চলতি অর্থবছরেও লোকসানে রয়েছে খনিটি। এ অবস্থায় পাথর আমদানির ওপর শুল্ক বাড়া এবং মধ্যপাড়ার পাথরের ট্যারিফ ভ্যালু বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
খনিটি সচল রাখতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী জোবায়েদ হোসেন। তিনি বলেন, কিছু কর ছাড়, বিশেষ করে বিস্ফোরক আমদানিতে ট্যাক্স রিলিফ দেয়া হলে উৎপাদন খরচ কমবে। এতে উৎপাদন বাড়বে এবং সরকারের রাজস্বও বাড়বে। মধ্যপাড়া খনি চালু থাকায় পাথরের আমদানিমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।
তিনি আরও জানান, ব্লাস্ট ও বোল্ডার; এই দুই ধরনের পাথরের বিক্রি না বাড়লে স্থান সংকটের কারণে অচিরেই উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশে বছরে পাথরের চাহিদা ৩ কোটি টনের বেশি হলেও মধ্যপাড়ায় উৎপাদন হয় মাত্র ১৫-১৬ লাখ টন, যা মোট চাহিদার ৫-৭ শতাংশ। বাকি পাথর বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।
মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি ২০০৭ সালের ২৫ মে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। ৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত খনির ইয়ার্ডে প্রায় ১৪ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন পাথর মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ব্লাস্ট পাথর প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টন এবং বোল্ডার ৩ লাখ ৭৭ হাজার টন। খনির উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে বেলারুশের জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)।