গাজায় চলমান মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে এবার সমুদ্রপথে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামে পরিচিত একটি নৌবহর ইসরায়েলি অবরোধ অতিক্রম করে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে।
১২ এপ্রিল স্পেনের বার্সেলোনা বন্দর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে অংশ নিয়েছে প্রায় ৭০টি জাহাজ এবং বিশ্বের ৭০টি দেশের প্রায় এক হাজার মানুষ। আয়োজকদের দাবি, এটি এ ধরনের উদ্যোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়।
এই ফ্লোটিলার লক্ষ্য শুধু ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া নয়, বরং গাজায় চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আরও বাড়ানো। উদ্যোগটির সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন যুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে গ্রিনপিস এবং ওপেন আর্মস উল্লেখযোগ্য।
ফ্লোটিলার বোর্ড সদস্য ফাতিহ ভারোল জানিয়েছেন, এই মিশনে তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদের প্রতিনিধি দল শুধু অংশগ্রহণই করছে না, বরং জাহাজ প্রস্তুতি এবং সমন্বয়েও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।
এরই মধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন বন্দরে নৌবহরের প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। ইতালির অগাস্টা বন্দরে শেষ ধাপের প্রস্তুতি চলছে, আর বার্সেলোনা থেকে যাত্রা করা জাহাজগুলো সেখানে পৌঁছাতে শুরু করেছে।
এদিকে ২২ এপ্রিল বেলজিয়ামের ব্রাসেলস-এ অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের আইনপ্রণেতারা গাজা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেখানে অবরোধ প্রত্যাহার, সহিংসতা বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক আইন বাস্তবায়নের দাবি উঠে।
আয়োজকদের মতে, এই মিশন আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশের সিভিল সোসাইটি ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে এগোনো হচ্ছে।
২০০৭ সাল থেকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বর্তমানে তীব্র মানবিক বিপর্যয় চলছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে অবকাঠামো ধ্বংস, স্বাস্থ্যসেবার ভাঙন এবং বিপুল মানুষের বাস্তুচ্যুতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। লাখো মানুষ এখনো খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের সংকটে দিন কাটাচ্ছে।