১৯৭১ সালের স্বাধীনতা আর ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে এক সুতোয় গেঁথে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ শনিবার (১৬ মে) চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, "এখন সময় দেশ গড়ার, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের।"
চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির এক নতুন রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি অতীত ও বর্তমানের দুটি ঐতিহাসিক মাইলফলককে স্মরণ করে বলেন, "আমাদের বীর পূর্বপুরুষেরা ১৯৭১ সালে বুকের রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। আর আমাদের তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষ ২০২৪ সালে রাজপথে রক্ত দিয়ে দেশকে স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্ত করেছে।"
তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক মুক্তি অর্জিত হলেও অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি ছাড়া সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব নয়। স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং দেশের অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা।
চাঁদপুরে নিম্নবিত্ত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের টেকসই খাদ্য নিরাপত্তার অংশ হিসেবে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে 'ফ্যামিলি কার্ড' বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এই উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কার্ড কেবল একটি সরকারি সুবিধা নয়, বরং এটি নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার প্রতীক। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে প্রান্তিক পরিবারের কষ্ট লাঘব করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কার্ড বিতরণ কিংবা যেকোনো ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে কোনো ধরনের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা দলীয়করণ বরদাশত করা হবে না। প্রকৃত উপকারভোগীরা যেন তাদের অধিকার বুঝে পান, তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে তারেক রহমান উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, "আমরা শুধু ক্ষমতার পালাবদল চাইনি, আমরা চেয়েছি ব্যবস্থার পরিবর্তন। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই আমাদের মূল লক্ষ্য।" তিনি দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।