বাংলাদেশে গত বছর দেড় কোটিরও বেশি মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের দুই-তৃতীয়াংশ মাত্র ১০টি দেশে কেন্দ্রীভূত, আর সেই তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। চলতি বছরে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা নেই বলেই সতর্ক করেছে বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস। এটি তৈরি করেছে গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অ্যাগেইনস্ট ফুড ক্রাইসিস। জাতিসংঘ, খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (আইএফএডি), ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ মানুষ ‘সংকটজনক পর্যায় ৩’-এ এবং আরও ৪০ লাখ মানুষ ‘জরুরি পর্যায় ৪’-এর খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ছিল। অর্থাৎ, তারা পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছিল না এবং অনেক ক্ষেত্রে জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছিল।
বাংলাদেশে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার পেছনে একাধিক কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব কারণ মিলেই খাদ্যসংকটকে দীর্ঘস্থায়ী করে তুলছে।
বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের দুই–তৃতীয়াংশ মাত্র ১০টি দেশে কেন্দ্রীভূত। আফ্রিকার কয়েকটি দেশ, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কিছু দেশ এই তালিকায় রয়েছে। বাংলাদেশও সেই তালিকায় যুক্ত হওয়া উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব দেশে চলতি বছরে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা নেই।
বাংলাদেশে খাদ্যসংকটের এই চিত্র শুধু দেশের জন্য নয়, বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তার জন্যও বড় সতর্কবার্তা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, খাদ্য বিতরণে স্বচ্ছতা আনা এবং দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া এই সংকট কাটানো সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে। তাই এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে খাদ্যসংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।