নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা গুণীজনদের স্বীকৃতি ও সম্মাননা জানানোর লক্ষ্যে ‘দোলন সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্মাননা–২০২৭’ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে প্রকাশন সংস্থা দোলন। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ঢাকায় এ সম্মাননা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিত্বদের কাজকে মূল্যায়নের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল ও মানবিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
প্রস্তাবিত এ সম্মাননার সম্ভাব্য বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলা সাহিত্য, শিশুতোষ সাহিত্য, কবিতা ও সৃজনশীল লেখালেখি, চারুকলা ও চিত্রকলা, সংগীত, নাটক ও পরিবেশনশিল্প, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও পরিচালনা, গণমাধ্যম, ডিজিটাল সৃজনশীলতা, ফটোগ্রাফি এবং সমাজসেবা। এ ছাড়া সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সম্মাননা প্রদানের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
দোলন প্রকাশনীর প্রকাশক কামাল মুস্তাফা বলেন, “একটি দেশের প্রকৃত সমৃদ্ধি শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সেই দেশের সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যাঁরা তাঁদের মেধা, শ্রম, অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতা দিয়ে সমাজকে সমৃদ্ধ করছেন, তাঁদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সেই উপলব্ধি থেকেই দোলন সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্মাননা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছি।”
তিনি বলেন, “আমাদের সমাজে অনেক গুণী মানুষ রয়েছেন, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ ক্ষেত্রে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু তাঁদের অনেকের অবদান বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয় না। আমরা চাই, তাঁদের কাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাঁদের অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে। আমাদের কাছে সম্মাননা শুধু একটি স্মারক বা পুরস্কার নয়; এটি একজন মানুষের সৃজনশীলতা, শ্রম ও দীর্ঘদিনের সাধনার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যম।”
সাহিত্য-সংস্কৃতির পাশাপাশি গুরুত্ব পাবে ফটোগ্রাফি ও সমাজসেবা
দোলন প্রকাশনীর পরিকল্পনায় সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখার পাশাপাশি ফটোগ্রাফি এবং সমাজসেবাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে। আয়োজকদের ভাবনায়, আলোকচিত্রীরা তাঁদের ক্যামেরায় প্রকৃতি, মানুষ, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সময়ের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ধারণ করেন। তাঁদের কাজ সমাজের বাস্তবতাকে তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান দলিল হয়ে থাকতে পারে।
অন্যদিকে, সমাজসেবীরা মানুষের কল্যাণে কাজ করে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাঁদের অবদানও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সাহিত্যিক ও শিল্পীদের পাশাপাশি আলোকচিত্রী এবং সমাজের কল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও এ উদ্যোগে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কামাল মুস্তাফা বলেন, “আমরা চাই, সাহিত্যিক ও শিল্পীদের পাশাপাশি আলোকচিত্রী এবং সমাজের কল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিরাও তাঁদের কাজের স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ পান। একজন লেখক তাঁর লেখার মাধ্যমে মানুষের চিন্তাকে সমৃদ্ধ করেন, একজন শিল্পী তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে সৌন্দর্য ও অনুভূতির প্রকাশ ঘটান, আর একজন সমাজসেবী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার পরিচয় দেন। এসব অবদানই একটি সুন্দর ও সচেতন সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ।”
নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীলতায় উৎসাহিত করার প্রত্যাশা
দোলন প্রকাশনীর প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়া, সাহিত্যচর্চা, শিল্পকলা, সংগীত, আলোকচিত্র ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হবে। প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বদের কাজের পাশাপাশি নতুন ধারার সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করারও সুযোগ তৈরি হতে পারে এ আয়োজনের মাধ্যমে।
প্রকাশক কামাল মুস্তাফা বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু একবারের জন্য একটি অনুষ্ঠান করা নয়; বরং সম্মাননাটিকে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে গড়ে তোলা। আমরা চাই, এটি ভবিষ্যতে নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে দেশের সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখা মানুষদের সম্মান জানানোর একটি অর্থবহ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠুক। এ জন্য সংশ্লিষ্ট লেখক, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যমকর্মী, সমাজসেবী ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।”
‘সৃজনের স্বীকৃতি, গুণীজনের সম্মান’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত ‘দোলন সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্মাননা–২০২৭’ আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে দোলন প্রকাশনী। সম্ভাব্য বিভাগ, সম্মাননাপ্রাপ্তদের নির্বাচনপ্রক্রিয়া, বিচারক বা পরামর্শক প্যানেল, অনুষ্ঠানের তারিখ এবং অন্যান্য আয়োজনসংক্রান্ত বিষয় পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দেশের সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি, ফটোগ্রাফি ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সৃজনশীল চর্চার বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা করছে দোলন প্রকাশনী।