দেশে হাম পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম সন্দেহে আরও ১৭ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে নতুন করে এক হাজার ৩০২ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সংক্রমণের এই ধারাবাহিক বিস্তার জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।
সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সর্বশেষ পরিস্থিতির এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৭৯৩ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজার ৪৬৭।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৫৪ জন। যদিও নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম, তবে সন্দেহজনক রোগীর উচ্চ হার পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। কারণ, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি, অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং কিছু এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে হাম সংক্রমণের হার বেশি হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। গ্রামাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চিকিৎসকেরা বলছেন, হামকে সাধারণ জ্বর বা চর্মরোগ ভেবে অবহেলা করলে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি ও মস্তিষ্কে সংক্রমণের মতো জটিলতা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। তাই প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে। সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হলে দ্রুত নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিশুদের টিকাদানে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, যেসব শিশু নিয়মিত টিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পূর্ণাঙ্গ টিকাদান। বাংলাদেশে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু এলাকায় টিকাগ্রহণের হার কমেছে। এর ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হাম এমন একটি রোগ যা একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে খুব সহজেই আশপাশের অনেক মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে যেতে পারে। ফলে একটি এলাকায় সংক্রমণ শুরু হলে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে তা বড় আকার ধারণ করতে পারে।