১৯৯৭ সালের ১১ মে। বিশ্বের নজর ছিল একটি দাবার ম্যাচের দিকে। একপাশে বিশ্বের সেরা দাবাড়ু ও বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়ন গ্যারি কাসপারভ, অন্যপাশে একটি সুপারকম্পিউটার, ডিপ ব্লু।
সেদিনের সেই ম্যাচ কেবল দাবার প্রতিযোগিতা ছিল না, বরং ছিল মানুষের মেধা ও যন্ত্রের গণনাশক্তির মধ্যকার এক ঐতিহাসিক লড়াই। আর সেই লড়াইয়ে জয়ী হয়েছিল যন্ত্র।
আইবিএম- এর তৈরি ডিপ ব্লু ৬ গেমের ম্যাচে কাসপারভকে ৩.৫–২.৫ পয়েন্টে হারিয়ে দেয়। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো কম্পিউটার পূর্ণাঙ্গ ক্লাসিক ম্যাচে বর্তমান বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়নকে পরাজিত করে।
তৎকালীন সময়ে ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। কারণ দাবাকে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা ও কৌশলগত দক্ষতার প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। অনেকেই মনে করতেন, মানুষের মতো করে চিন্তা করা কখনোই কোনো যন্ত্রের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু ডিপ ব্লুর জয় সেই ধারণাকে বদলে দেয়।
ডিপ ব্লু প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২০ কোটি সম্ভাব্য চাল বিশ্লেষণ করতে পারত। বিশাল তথ্যভাণ্ডার, জটিল অ্যালগরিদম এবং শক্তিশালী প্রসেসরের সমন্বয়ে এটি প্রতিপক্ষের সম্ভাব্য চাল আগেভাগেই বিশ্লেষণ করত।
তবে এই ম্যাচ ঘিরে বিতর্কও ছিল। ম্যাচ শেষে কাসপারভ অভিযোগ করেছিলেন, কম্পিউটারের পেছনে মানুষের সহায়তা থাকতে পারে। যদিও আইবিএম সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। পরে ডিপ ব্লু প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তবুও ইতিহাসে অমর হয়ে আছে সেই দিনটি। কারণ এই জয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাকে নতুন গতি দেয়। আজকের আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি—ভয়েস সহকারী, স্বয়ংচালিত গাড়ি, চিকিৎসা বিশ্লেষণ কিংবা চ্যাটবট, সবকিছুর পেছনে রয়েছে সেই সময়ের গবেষণা ও অগ্রযাত্রার বড় ভূমিকা।
দাবার বোর্ডে শুরু হওয়া মানুষ বনাম যন্ত্রের সেই লড়াই আজ প্রযুক্তির নতুন এক যুগের প্রতীক হয়ে আছে। ১৯৯৭ সালের এই দিনটি তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।