বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হারের পর মাঠে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার জেরে কঠোর শাস্তির মুখে পড়েছেন আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলার। সব মিলিয়ে লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা ও থিয়াগো আলমাদাকে ১৯ ম্যাচের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করেছে ফিফা।
শাস্তির মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন পারেদেস। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের পর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তাকে ১০ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই ঘটনায় মোলিনা পেয়েছেন ৭ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এবং আলমাদাকে দুই ম্যাচের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে দূরে থাকতে হবে।
ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ার পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পেনের খেলোয়াড়রা মাঠে উদযাপনে নামলে পারেদেস গাভিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
ঘটনার তদন্ত শেষে ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিশন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়। পারেদেসের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও শারীরিক আক্রমণসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়। মোলিনার বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ ছিল।
শুধু নিষেধাজ্ঞাই নয়, আর্থিক জরিমানাও গুনতে হচ্ছে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের। পারেদেস ও মোলিনাকে ৯০ হাজার মার্কিন ডলার করে জরিমানা করা হয়েছে। আলমাদা, আর্জেন্টিনা দলের স্টাফ রবার্তো আয়ালা এবং স্পেনের গাভিকে ৩০ হাজার ডলার করে জরিমানা করা হয়েছে। আয়ালাকে তিন ম্যাচ ও গাভিকে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে এই নিষেধাজ্ঞা কেবল আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য প্রযোজ্য। ফলে শাস্তিপ্রাপ্ত ফুটবলাররা নিজ নিজ ক্লাবের হয়ে খেলতে পারবেন।
এদিকে, টুর্নামেন্ট চলাকালে বিভিন্ন শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে ফিফা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের পর আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় সংস্থাটিকে প্রায় আড়াই লাখ ইউরো জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি আর্জেন্টিনার পরবর্তী দুটি হোম ম্যাচ অর্ধেক দর্শক ধারণক্ষমতায় আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।