করলা স্বাদে তেতো হলেও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি সবজি, যা বিশেষত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন, করলা ভাজি করে খাওয়া ভালো, নাকি ভর্তা করে? রান্নার পদ্ধতির ভিন্নতায় এর পুষ্টিগুণ কতটা বদলায়, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
পুষ্টিবিদদের মতে, করলায় রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, আয়রন, পটাশিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- করলায় থাকা ‘চারান্টিন’ এবং ‘পলিপেপটাইড-পি’ নামের উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী।
তবে করলার উপকারিতা পুরোপুরি পেতে হলে রান্নার পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত তেল ও উচ্চ তাপে রান্না করলে এর অনেক পুষ্টি উপাদান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে করলা ভাজি একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি হলেও, দীর্ঘ সময় ধরে তেলে ভাজার ফলে এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিনের পরিমাণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অন্যদিকে, করলা ভর্তা তুলনামূলকভাবে কম তেলে এবং স্বল্প তাপে প্রস্তুত করা হয়। সাধারণত সেদ্ধ বা হালকা ভাজা করলা পিষে ভর্তা তৈরি করা হয়, যেখানে পুষ্টিগুণ অনেকটাই অক্ষুণ্ন থাকে। এছাড়া ভর্তা তৈরির সময় পেঁয়াজ, রসুন, সরিষার তেল যোগ করলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি কিছু অতিরিক্ত পুষ্টিও যুক্ত হয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, করলার তেতো স্বাদ কমাতে অনেকেই রান্নার আগে লবণ মাখিয়ে রাখেন বা অতিরিক্ত ভাজেন। এতে স্বাদে পরিবর্তন এলেও পুষ্টিগুণের ক্ষতি হয়। তাই করলার স্বাভাবিক তেতোভাব কিছুটা বজায় রেখে রান্না করাই শ্রেয়।
একনজরে করলার উপকারিতা:
খাদ্যাভ্যাসে করলা অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায় ভর্তা বা হালকা রান্না করা করলাই বেশি উপকারী বলে মত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।