২ লিটার তেলের জন্য ৬ ঘণ্টা অপেক্ষা, ক্ষোভে ফুঁসছেন চালকেরা
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পাওয়ার অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা। কোথাও ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও মিলছে না তেল পাওয়ার নিশ্চয়তা।
বুধবার রাজধানীর কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউয়ের মেঘনা পেট্রোল পাম্প ও রমনা পেট্রোল পাম্পে সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক চালক বিকেল গড়িয়েও তেল নিতে পারেননি। কেউ কেউ সকাল ৮টা থেকে অপেক্ষা করেও বিকেল ৫টা পর্যন্ত লাইনে ছিলেন।
মেঘনা পেট্রোল পাম্পের যানবাহনের দীর্ঘ সারি বাংলামোটর হয়ে পরীবাগ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। অন্যদিকে রমনা পেট্রোল পাম্পের লাইন ছাড়িয়ে যায় শাহবাগ এলাকা পর্যন্ত। এতে আশপাশের সড়কেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই সংকট নিয়ে সরকার বলছে, আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতাই পরিস্থিতিকে জটিল করছে। যদিও বাস্তবে পাম্পগুলোর সামনে প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি। দুই সপ্তাহ আগেও যেখানে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টায়।
অনেক চালকের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লাইনে থাকার পরও শেষ মুহূর্তে তেল ফুরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা শুনতে হচ্ছে। এতে চরম অনিশ্চয়তায় পড়ছেন তারা।
সংকট নিরসনে চালু করা সরকারের ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থাও ভোগান্তি কমাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন ব্যবহারকারীরা। কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল নেওয়ার সুবিধা থাকলেও পাসধারীদের জন্য আলাদা লাইন না থাকায় বাস্তবে বাড়তি সুবিধা মিলছে না।
এ ছাড়া অনেক ব্যবহারকারী এখনো অ্যাপ ও কিউআর কোড ব্যবহারের পদ্ধতি পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেননি। পাম্পকর্মীদের দাবি, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষকে সেখানেই নিবন্ধন ও অ্যাপ ব্যবহারে সহায়তা করতে হচ্ছে, এতে লাইনের গতি আরও ধীর হয়ে যাচ্ছে।
ফুয়েল পাস থাকলেও তেল পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকায় হতাশ চালকেরা। তাদের মতে, এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে আলাদা লেন চালু ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে মাসে সর্বোচ্চ ৬০ লিটার তেল নেওয়ার সীমা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন রাইড শেয়ারিং খাতের মোটরসাইকেল চালকেরা। তাদের দাবি, পেশাগত প্রয়োজনের তুলনায় এই সীমা অপ্রতুল এবং এ খাতের জন্য আলাদা নীতিমালা প্রয়োজন।
পাঠাও চালক শামীম বলেন, ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পেলাম মাত্র ২ লিটার। এই অল্প তেল দিয়ে কীভাবে বাইক চালাব? এতে আমাদের সংসার চলবে না।
চলমান সংকটে জনদুর্ভোগ বাড়তে থাকায় দ্রুত কার্যকর সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।