১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে আজ দেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত এই দিন উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা ধর্মীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সংবাদপত্রও আজ প্রকাশিত হচ্ছে না।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইসলামের সর্বশেষ নবী ও রাসুল। মানবজাতির জন্য তিনি এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, ন্যায়, সত্য, দয়া, সহমর্মিতা ও মানবিক মর্যাদার শিক্ষা দিয়ে গেছেন। আরবের সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের সময়ে তাঁর আগমন মানবসমাজে শান্তি, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের নতুন বার্তা নিয়ে আসে।
চল্লিশ বছর বয়সে হেরা গুহায় প্রথম ওহি নাজিলের মাধ্যমে তাঁর নবুওয়াতের দায়িত্ব শুরু হয়। দীর্ঘ ২৩ বছর তিনি মানুষকে সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের পথে আহ্বান জানান। মক্কায় নির্যাতনের মুখে পড়ে পরে মদিনায় হিজরত করেন এবং সেখানে ন্যায় ও মানবিকতার ভিত্তিতে সমাজ গঠনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দিবসটি উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পক্ষকালব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মিলাদ-মাহফিল, আলোচনা সভা, সেমিনার, ওয়াজ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বায়তুল মোকাররম এলাকায় চলছে ইসলামি বইমেলাও।
এদিন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, দোয়া, দান-খয়রাত ও বিভিন্ন নফল ইবাদতের মাধ্যমে মহানবী (সা.)-এর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করছেন।