মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জাতিসত্তার স্বীকৃতি পেলেও স্বাধীনতার ৫৬ বছর পরও বাংলাদেশ প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার জেসিআই কার্নিভালে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দারিদ্র্য ও শিক্ষার ঘাটতির বিষয় তুলে ধরেন।
স্বাধীনতার অর্ধশতক পেরিয়ে গেলেও উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) আয়োজিত যুব নেতৃত্ব ও উন্নয়ন সংগঠন জেসিআই কার্নিভালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি। কিন্তু গত ৫৬ বছরে আমরা খুব একটা ভালো করতে পারিনি।”
মন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরে বলেন, মাথাপিছু আয় ও মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার পরও বড় একটি জনগোষ্ঠী এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে, যা দেশের জন্য উদ্বেগজনক।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত মানুষের সংখ্যাও কম নয়। এসব চ্যালেঞ্জ দেশের টেকসই উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে শুধুই হতাশার চিত্র তুলে ধরেননি মন্ত্রী। দেশের কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে অর্জিত অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এক সময় খাদ্য ঘাটতির দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ এখন অনেকাংশে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। এই সাফল্য ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মন্ত্রীর এই মন্তব্য দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন খাতে অগ্রগতি সত্ত্বেও আয়ের বৈষম্য, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষার সুযোগের অসমতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
জেসিআই কার্নিভালের মতো প্ল্যাটফর্মে এমন বক্তব্য তরুণদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তরুণ নেতৃত্বের উন্নয়ন ও সচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রে এসব খোলামেলা আলোচনা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে অবকাঠামো, কৃষি ও রপ্তানি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে টেকসই উন্নয়নের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা খাতের সংস্কার এবং দারিদ্র্য বিমোচনে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।