মানবদেহের 'পাওয়ার হাউস' বলা হয় লিভার বা যকৃৎকে। রক্ত থেকে বিষাক্ত টক্সিন বের করা থেকে শুরু করে খাবার হজম, হরমোন নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তি সঞ্চয়—সবই সামলায় এই একটি অঙ্গ। কিন্তু বর্তমানের ব্যস্ত জীবন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস আর স্ট্রেসের ভিড়ে আমরা সবচেয়ে বেশি অবহেলা করি এই লিভারকেই। অথচ সামান্য কিছু সচেতনতাই পারে আপনার লিভারকে বছরের পর বছর কর্মক্ষম রাখতে।
খাদ্যতালিকায় আসুক পরিবর্তন আপনার প্লেটে ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত তেলের আধিক্য মানেই লিভারে চর্বি জমার আমন্ত্রণ। পুষ্টিবিদদের মতে, সুস্থ লিভারের জন্য ফল, শাকসবজি এবং আঁশযুক্ত খাবারের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে রসুন, হলুদ, গ্রিন টি ও লেবু লিভারের পরম বন্ধু। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত চিনি আর লবণ লিভারের জন্য নীরব ঘাতক।
মাদক ও অ্যালকোহলকে ‘না’ বলুন অ্যালকোহল লিভারের কোষগুলোকে সরাসরি ধ্বংস করে। এর ফলে লিভার সিরোসিস বা হেপাটাইটিসের মতো প্রাণঘাতী রোগ হতে পারে। একইভাবে ধূমপানও লিভারে বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার জন্য এসব থেকে দূরে থাকা জরুরি।
ওজন ও জীবনযাত্রায় নিয়ন্ত্রণ স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন লিভারে চর্বি জমিয়ে 'ফ্যাটি লিভার' তৈরি করে। দিনে অন্তত ৩০ মিনিট শরীরচর্চা বা দ্রুত হাঁটা আপনার লিভারের ওপর থেকে চাপের বোঝা অনেকটাই কমিয়ে দেয়। এছাড়া প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুম লিভারকে নিজে নিজে সুস্থ হয়ে ওঠার (Recovery) সময় দেয়।
ভুল ওষুধ ও ভাইরাসের ঝুঁকি অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘনঘন ব্যথানাশক ওষুধ বা ভেষজ সাপ্লিমেন্ট খান, যা লিভারের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি হেপাটাইটিস এ, বি এবং সি ভাইরাস থেকে বাঁচতে টিকা নেওয়া এবং নিরাপদ সূঁচ ও রক্ত ব্যবহারের বিষয়ে আপসহীন হতে হবে। নিরাপদ খাবার ও বিশুদ্ধ পানিও এখানে বড় ভূমিকা রাখে।
সতর্কতা যখন জরুরি হঠাৎ ক্ষুধামান্দ্য, অতিরিক্ত ক্লান্তি, পেটের ডান পাশে ব্যথা কিংবা জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি করবেন না। বছরে অন্তত একবার লিভার ফাংশন টেস্ট বা এলএফটি (LFT) করিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
আপনার যকৃৎ কেবল একটি অঙ্গ নয়, এটি শরীরের ফিল্টার। একে পরিষ্কার ও সচল রাখতে আজই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো গড়ে তুলুন।