সামান্য হাঁটাহাঁটি করলেই পায়ে ব্যথা অনুভব করছেন অনেকেই, যা দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সমস্যার পেছনে থাকতে পারে পেশি, স্নায়ু কিংবা রক্তনালীর জটিলতা। সঠিক কারণ শনাক্ত করে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
পায়ে ব্যথা একটি সাধারণ উপসর্গ হলেও এর পেছনের কারণগুলো বেশ বৈচিত্র্যময়। কারও ক্ষেত্রে এটি হালকা টান বা ক্র্যাম্প হিসেবে দেখা দেয়, আবার কারও ক্ষেত্রে জ্বালাপোড়া বা ঝিনঝিন অনুভূতির সঙ্গে তীব্র ব্যথা হয়। অনেকেই লক্ষ্য করেন, হাঁটলে ব্যথা বাড়ে এবং বিশ্রাম নিলে কিছুটা কমে যায়, যা বিশেষ কিছু রোগের লক্ষণ হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় বসে থাকা, হঠাৎ বেশি হাঁটা বা অনিয়মিত ব্যায়ামের কারণে পেশিতে চাপ পড়ে এবং ব্যথা তৈরি হতে পারে। তবে শুধু এটিই নয়, শরীরে পানিশূন্যতা বা ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতাও পায়ে ক্র্যাম্পের অন্যতম কারণ। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় বা অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীরে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ঘাটতি হলে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
অন্যদিকে, পায়ে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক না থাকলেও হাঁটার সময় ব্যথা হতে পারে। চিকিৎসা পরিভাষায় একে ‘ক্লডিকেশন’ বলা হয়, যেখানে রক্তনালীর সংকোচনের কারণে পেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না। ফলে হাঁটার সময় ব্যথা বাড়ে, আবার বিশ্রাম নিলে তা কমে যায়। এটি হৃদ্রোগ বা ডায়াবেটিসের রোগীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
স্নায়ুজনিত সমস্যাও এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কোমরের নিচের অংশে স্নায়ু চাপে থাকলে সেই ব্যথা পায়ের দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আবার ডায়াবেটিসজনিত নিউরোপ্যাথির কারণে পায়ে ঝিনঝিন বা জ্বালাপোড়া অনুভূতি দেখা দেয়, যা হাঁটার সময় আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এ ছাড়া জুতা নির্বাচনও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনুপযুক্ত বা শক্ত জুতা পরলে পায়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যথার কারণ হতে পারে। অনেক সময় পায়ের আর্চ বা গঠনের সমস্যাও ব্যথার উৎস হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যাটি দীর্ঘদিন অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রাথমিকভাবে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম, স্ট্রেচিং এবং পর্যাপ্ত পানি পান অনেক ক্ষেত্রে উপকার দেয়। তবে ব্যথা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা তীব্রতা বাড়তে থাকে, তাহলে রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে বা অন্যান্য পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।