গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো ধরনের টালবাহানা করা হলে বিএনপিকেও বিদায়ী স্বৈরাচারের মতোই ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আজ শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।
রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে লাখো জনতার উপস্থিতিতে ডা. শফিকুর রহমান বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, "যে পথ ধরে বিগত স্বৈরাচারী শাসক হেঁটেছে এবং ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে, বিএনপিও এখন ক্ষমতার মোহে ঠিক সেই একই ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে। তারা জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায়কে অবমূল্যায়ন করছে।"
তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস সাক্ষী—জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অতীতে কেউ পার পায়নি, ভবিষ্যতেও কেউ রেহাই পাবে না। জনরায়কে উপক্ষো করার রাজনীতি বন্ধ না হলে দেশের মানুষ রাজপথেই এর উপযুক্ত জবাব দেবে।
মহাসমাবেশে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও সেচ সংকটের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। তিনি বলেন, "উত্তর অববাহিকার কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা তিস্তা নদীর ওপর নির্ভরশীল। বছরের পর বছর ধরে এই অঞ্চলের মানুষ পানির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আর কোনো রাজনীতি চলবে না। উত্তরবঙ্গকে মরুভূমি হওয়া থেকে বাঁচাতে এই মহাপরিকল্পনা অবিলম্বে আলোর মুখ দেখতে হবে।"
সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা বলেন, তিস্তা নদীর অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর কোনো ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না এবং এই দাবি আদায়ে ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে।
সমাপনী বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ এক স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে আরেক নতুন স্বৈরাচারকে গ্রহণ করার জন্য রক্ত দেয়নি। জামায়াতে ইসলামী এবং ১১ দলীয় ঐক্য দেশের সাধারণ মানুষের পাশে থেকে অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজশাহীর এই মহাসমাবেশ থেকে জামায়াত আমিরের দেওয়া বক্তব্য আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপিকে দেওয়া এই প্রকাশ্য আলটিমেটাম অন্তর্বর্তী ও আগামী রাজনৈতিক সমীকরণে দল দুটির মধ্যকার দূরত্ব ও সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।