বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে হেড-নেক ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে ইমিউনোথেরাপি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি রোগীদের বেঁচে থাকার হার বাড়াচ্ছে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও তুলনামূলক কম, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
হেড-নেক ক্যানসার বলতে সাধারণত মুখগহ্বর, গলা, ল্যারিংস, নাক ও সাইনাস অঞ্চলের ক্যানসারকে বোঝানো হয়। বাংলাদেশে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার, পান-জর্দা খাওয়ার অভ্যাস এবং দূষণের কারণে এই ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। দীর্ঘদিন ধরে সার্জারি, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপিই ছিল প্রধান চিকিৎসা পদ্ধতি। তবে এসব চিকিৎসায় অনেক সময় গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং সব রোগীর ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর হয় না।
এই প্রেক্ষাপটে ইমিউনোথেরাপি নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। এটি এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (ইমিউন সিস্টেম)কে শক্তিশালী করে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে উৎসাহিত করা হয়। অর্থাৎ, সরাসরি ক্যানসার কোষ ধ্বংস না করে শরীরকে এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়, যাতে সে নিজেই ক্যানসারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, হেড–নেক ক্যানসারের ক্ষেত্রে ইমিউনোথেরাপি বিশেষ করে তখন কার্যকর, যখন রোগটি অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছে যায় বা প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এই চিকিৎসার ফলে টিউমারের আকার কমেছে এবং রোগীর জীবনমান উন্নত হয়েছে।
ঢাকার ক্যানসার বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইমিউনোথেরাপির অন্যতম সুবিধা হলো এর তুলনামূলক কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। যেখানে কেমোথেরাপিতে চুল পড়া, বমি বা দুর্বলতা দেখা যায়, সেখানে ইমিউনোথেরাপিতে এসব সমস্যা কম হয়। তবে এটি সব রোগীর জন্য সমানভাবে কার্যকর নয়, এবং চিকিৎসার খরচ এখনো অনেকের নাগালের বাইরে।
বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু বায়োমার্কার থাকলে রোগীরা ইমিউনোথেরাপি থেকে বেশি উপকার পান। ফলে চিকিৎসা শুরু করার আগে রোগীর শারীরিক অবস্থা ও ক্যানসারের ধরন বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইমিউনোথেরাপি এখনো বিকাশমান একটি ক্ষেত্র। ভবিষ্যতে এর খরচ কমানো এবং আরও কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবনের মাধ্যমে এটি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসতে পারে। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।