কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়তে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডসহ নানা উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
রোববার কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর আয়োজিত জনসমাবেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
সমাবেশে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ যে প্রত্যাশা ও আস্থা নিয়ে বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে, সেই আস্থা ধরে রাখতে হবে। বিএনপি সবসময় দেশের মানুষের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাবে। দেশের স্বার্থ ও জনগণের স্বার্থের বাইরে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটের জন্য আগের সরকারের অপরিকল্পিত বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে দায়ী করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশন শুরু হবে। ওই অধিবেশনে আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।
এ সময় রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাস্তায় অস্থিরতা তৈরি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন সাধারণ মানুষ। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। যারা দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ এখন শান্তি, আইনের শাসন ও কর্মসংস্থান চায়। একই সঙ্গে তারা সন্তানদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা এবং পরিবারের জন্য ভালো স্বাস্থ্যসেবা প্রত্যাশা করে। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ধৈর্য ধরার পাশাপাশি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
পাকুন্দিয়ায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। পরে জনসমাবেশস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মী করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।