গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে তিন শিশু এবং হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশু মারা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে ৪২টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৯৮ জন।
বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত একদিনে নতুন করে ১৭২ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৬০ শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের সংকেত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে এত মৃত্যু অস্বাভাবিক। টিকাদান কর্মসূচি দুর্বল হলে কিংবা সচেতনতার অভাব থাকলে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামের টিকা কার্যক্রমে ঘাটতি এবং গ্রামীণ এলাকায় সচেতনতার অভাবই মূলত মৃত্যুহারের জন্য দায়ী। অনেক অভিভাবক এখনো শিশুদের নিয়মিত টিকা দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।
তারা সতর্ক করেছেন, যদি দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার না করা হয়, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু ভর্তি হচ্ছে প্রতিদিন। চিকিৎসকরা বলছেন, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অনেকের শ্বাসকষ্ট, উচ্চ জ্বর ও শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিচ্ছে। গুরুতর অবস্থায় অনেক শিশুকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখতে হচ্ছে।
চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, হামের পাশাপাশি অপুষ্টি ও অন্যান্য রোগে ভোগা শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি বেশি।
বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক।