টানা বর্ষণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি দ্রুত বাড়ছে, তৈরি হচ্ছে বন্যার আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই কিছু জেলায় এর প্রভাব দেখা গেছে, আর সামনে পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে সতর্ক করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জেও বন্যা দেখা দিতে পারে, কারণ এসব অঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে।
কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়ার মতে, চলমান বৃষ্টিপাত অন্তত আরও পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি জমে বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আগেই সতর্ক করে বলেছিল, দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে কয়েক দিন ধরে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। সেই পূর্বাভাস অনুযায়ী গত রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে রাজধানীতেও।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে, ১৬১ মিলিমিটার। এছাড়া ভোলা ও ফেনীতেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এদিকে চারটি নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ভুগাই কংস, মনু, সোমেশ্বরী ও মগরা নদীর পানি বাড়ায় আশপাশের এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর মধ্যে মনু ছাড়া বাকি নদীগুলো নেত্রকোনার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত।
সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও এক থেকে দেড় মিটার পর্যন্ত বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব নদী তুলনামূলক ছোট হওয়ায় ভারী বৃষ্টিতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পায়।
তবে বৃষ্টিপাত কমে এলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।