বাংলাদেশজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বইছে। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই তাপপ্রবাহ সবার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে প্রবীণ, শিশু, হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ও অতিরিক্ত ওজনের মানুষদের জন্য। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতা এ সময়ে সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তীব্র গরমে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খায় মানবদেহ। অতিরিক্ত তাপ শরীরে জমে গেলে হিটস্ট্রোক হতে পারে, যা অনেক সময় প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। পাশাপাশি পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হলে মানুষ অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারে, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এ সময়ে পেশিতে টান ধরা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, তীব্র মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য ও প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া সাধারণ লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়। দীর্ঘ মেয়াদে কিডনিতে পাথর বা সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে।
এই শ্রেণির মানুষদের জন্য তাপপ্রবাহ আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
চিকিৎসকরা বলছেন, এ সময়ে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে হবে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। শুধু পানি নয়, লবণ ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষায় ফলের রস, ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও ওরাল স্যালাইন কার্যকর।
খাবারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার শরীরে তাপ উৎপন্ন করে। এর পরিবর্তে শাকসবজি, ফলমূল ও হালকা খাবার খাওয়া উচিত। বাইরে বের হলে হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরা, ছাতা ব্যবহার করা এবং সম্ভব হলে দুপুরের তীব্র রোদ এড়িয়ে চলা জরুরি।
দেশজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহ শুধু দৈনন্দিন জীবনকেই বিপর্যস্ত করছে না, জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণই পারে এই ঝুঁকি কমাতে। আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। তাই এখনই সতর্ক না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।