নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯১ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন তিন হাজারের বেশি মানুষ। ফলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রোববার সকাল পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুর্গত এলাকাগুলোতে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে। নেপালে হিমবাহ ধস ও বন্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬৭৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এ অবস্থায় সৎকারের আগে নিহতদের ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ।
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে চার হাজার মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় আড়াইশ বিদেশি পর্যটক রয়েছেন।
এদিকে নেপালের ভোতে-কোশি নদীর পানি ক্রমেই বাড়ছে। এতে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় নদীসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা।
জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি টানেলে আটকে পড়া বিপুলসংখ্যক মানুষকে উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহায়তাও চেয়েছে কাঠমান্ডু।
অন্যদিকে, তিব্বতে এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছেছে। সেখানে এখনো সাড়ে পাঁচশর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
গত কয়েক দিনের বন্যা ও ভূমিধসে নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী পার্বত্য অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে নেমে আসা কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে বহু ঘরবাড়ি, স্থাপনা ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় উদ্ধারকাজও ব্যাহত হচ্ছে।