বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে দেশে সংঘটিত দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অনিয়মের বিভিন্ন বিষয় শ্বেতপত্রে তুলে ধরা হয়েছে। সেই তথ্য পর্যালোচনা করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, দুর্বল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, প্রকল্পের ব্যয় সঠিকভাবে নির্ধারণ না করা, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ার ধীরগতি, দুর্বল তদারকি ও জবাবদিহিতার ঘাটতি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এর অন্যতম কারণ।
এসব সমস্যা কমাতে নতুন প্রকল্প নেওয়ার আগে যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানো এবং বিলম্বের কারণ খুঁজে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানান তিনি। পাশাপাশি সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ই-জিপির ব্যবহার বাড়ানো এবং প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন।
সংসদে শিল্প খাতে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধানে ২ডি ও ৩ডি সাইসমিক জরিপ এবং সমুদ্রের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে দেশে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলায় মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়িতে একটি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। কুতুবজোমের টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং মাতারবাড়ির টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর নাগাদ গ্যাস সরবরাহের আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মূল ভূখণ্ডে এনে শিল্পকারখানায় সরবরাহের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। গ্যাস পাওয়া গেলে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিক শিল্পনগরীর প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ভোলায় গ্যাসভিত্তিক শিল্প, সার কারখানা এবং ৫০০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা চলছে।