দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনে তরুণসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী তিন মাসের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আনার লক্ষ্য নিয়েও কথা বলেছেন তিনি।
শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের তরুণ সমাজ চাইলে বড় ধরনের পরিবর্তন সম্ভব। অতীতের অভিজ্ঞতায় তরুণদের সক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে। এবার দেশকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতির পুরোপুরি সমাধান সম্ভব না হলেও অন্তত ৮০ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হবে। এ জন্য শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত হতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে চলবে। এর আওতায় এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাসাবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা প্লাস্টিক, কাগজ, ভাঙারি ও অন্যান্য পাত্রে পানি জমে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। তাই এসব জায়গায় পানি জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, মানুষ যেখানে-সেখানে ময়লা ফেললে ধীরে ধীরে তা বড় ধরনের আবর্জনায় পরিণত হয়। এর ফলে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজের দায়িত্ব থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে।
প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা নিজের বাসা, স্কুল, কলেজ কিংবা কর্মস্থল পরিষ্কার করার জন্য ব্যয় করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধ করতে সামাজিকভাবে মানুষকে সচেতন করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণ, শিক্ষার্থী, স্কাউট, বিএনসিসি, গার্ল গাইড ও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্পৃক্ত করার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। দেশ গঠনের বৃহত্তর লক্ষ্য সামনে রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের সুস্থ রাখতে হলে পরিবার, সমাজ ও দেশকেও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সচেতনতা ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, সিটি করপোরেশনের কর্মী, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সারাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও অনলাইনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।