জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর পর নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে সংসদ অধিবেশন কক্ষে বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ভোট দেন।
দুপুর ২টার কিছু পর সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী নিজের আসন থেকে উঠে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সঙ্গে নিয়ে ব্যালট বাক্সের কাছে যান। পরে ব্যালট পেপার বাক্সে ফেলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজের ভোট দেন। এ সময় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রীর পর রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ভোট দেন। ভোট দেওয়া শেষে তিনি সংসদ সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও করমর্দন করেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গেও তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এর আগে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভোট দেন। পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ অন্যান্য সংসদ সদস্য পর্যায়ক্রমে ভোট প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার মোট ভোটার ৩৪৯ জন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুজন প্রার্থী। তাঁদের একজন বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যজন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোটের শুরুতে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার নিয়ম ও প্রক্রিয়া বুঝিয়ে দেন।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে এ পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে পরাজিত করেন।