টাইফুন ডলফিনের প্রভাবে চীনের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া অব্যাহত রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাংহাইয়ের দুটি প্রধান বিমানবন্দরে ৯৪৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ট্রেনসহ বিভিন্ন গণপরিবহন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
তবে ঝড়টি দুর্বল হয়ে পড়ায় কয়েকটি শহরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন। ঝেজিয়াং প্রদেশের নিংবো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোমবার দুপুর থেকে ফ্লাইট চলাচল শুরুর কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে টাইফুনের প্রভাব পুরোপুরি না কাটায় কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
রোববার ঝেজিয়াংয়ের উপকূলে দুই দফা আঘাত হানার পর ধীরে ধীরে শক্তি হারায় ডলফিন। এরপর সোমবার সকালে চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনএমসি) টাইফুনটির জন্য সর্বনিম্ন মাত্রার সতর্কতা জারি করে।
এদিকে পূর্ব ও মধ্য চীনের কয়েকটি এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে এনএমসি। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব ও দক্ষিণ ঝেজিয়াংয়ের কয়েকটি এলাকায় আকস্মিক বন্যার সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সাংহাইয়ে ঝড়ের প্রভাবে বিমান চলাচলের পাশাপাশি স্থানীয় ট্রেনসহ বিভিন্ন গণপরিবহন সেবা স্থগিত করা হয়। প্রাদেশিক রাজধানী হাংঝুতেও রোববার কয়েকটি ট্রেনের চলাচল বন্ধ ছিল। সোমবার সকালে সেখানে সাবওয়ে পরিষেবা আবার চালু হয়েছে।
এর মধ্যেই উত্তর চীনেও চরম আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার বেইজিংয়ের পাঁচটি জেলায় ভারি বৃষ্টির জন্য রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে।
সপ্তাহের শেষ দিকে ডলফিনের প্রভাবে চীনের বিভিন্ন এলাকায় সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তখন এক হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিলের পাশাপাশি কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এর আগে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশে আঘাত হানে টাইফুন নউল। সে সময় চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, চলতি বছরে দেশটিতে আঘাত হানা ঝড়গুলোর মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী।
গত মাসেও চীনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। টাইফুন মেইসাকের প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংসি অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় ৩৯ জনের মৃত্যু হয়। একই ঝড়ের প্রভাবে মধ্যাঞ্চলের হুবেই প্রদেশে বজ্রঝড় ও প্রবল বাতাসে আরও ১১ জনের মৃত্যু এবং ৩৩১ জন আহত হন।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্বের সর্বোচ্চ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ চীন হলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রেও দেশটি অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। দেশটির লক্ষ্য ২০৬০ সালের মধ্যে অর্থনীতিকে কার্বন-নিরপেক্ষ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।