আজ (২১ এপ্রিল) দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে এবারের এই বড় পাবলিক পরীক্ষায়।
সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, এবার মোট পরীক্ষার্থী সংখ্যা ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিলে পরীক্ষার্থী ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন। সারাদেশে ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় বসছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
পরীক্ষা সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এবার যারা পরীক্ষা দিচ্ছে তারা করোনার কারণে আগে কোনো বড় পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। ফলে তাদের জন্য এটি প্রথম পূর্ণাঙ্গ বোর্ড পরীক্ষা। তাই পরীক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক, শান্ত এবং শিক্ষার্থীবান্ধব রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত আলো, ফ্যান, বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষাকেন্দ্রের আশপাশ যানজটমুক্ত রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেট ও পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদেরও সহনশীল আচরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী অযথা আতঙ্কিত না হয়। প্রশ্নপত্রে কোনো জটিলতা থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
উত্তরপত্র মূল্যায়নেও অতিরিক্ত কঠোরতা পরিহার করার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, কোনো পরীক্ষার্থী যেন তার প্রাপ্য নম্বর থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ভীতিমুক্ত ও সহায়ক পরিবেশে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দিতে পারবে এবং ইতিবাচক অভিজ্ঞতা নিয়েই কেন্দ্র ত্যাগ করবে।