বেসরকারি শিক্ষকদের অবসরকালীন সুবিধার অর্থ পেতে এখন থেকে আর দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কোনো ধরনের হয়রানি বা মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই শিক্ষকদের প্রাপ্য অর্থ নির্ধারিত সময়ে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়া হবে।
শনিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দীর্ঘ অপেক্ষার পর দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ৭০ হাজার ১১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা তাদের প্রাপ্য অর্থের একটি অংশ পেয়েছেন। ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ‘অবসর সুবিধা বোর্ডের’ মাধ্যমে এই অর্থ সরাসরি শিক্ষকদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষকেরা নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে গড়ে তোলেন। অথচ তাদের নিজেদের পাওনা টাকা পেতে যদি ঘুষ দিতে হয় কিংবা এক অফিস থেকে আরেক অফিসে ঘুরতে হয়, তাহলে তা শুধু শিক্ষকদের দুর্ভোগ নয়, পুরো জাতির জন্য লজ্জার বিষয়।
তারেক রহমান বলেন, অনলাইনে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানোর মাধ্যমে শিক্ষকদের সেই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, আগের সরকার আমলে শিক্ষক-কর্মচারীদের দুটি তহবিলেও অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। জাল ইনডেক্স তৈরি, দুর্বল ব্যাংকে তহবিলের অর্থ সরিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নষ্ট করার কারণে তহবিল দুটি আর্থিক সংকটে পড়ে। এর ফলে ২০২২ সালের পর থেকে অনেক শিক্ষক তাদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ পাননি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকলেও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দুরবস্থার কথা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ সময় প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর উদ্যোগেই ১৯৯১ সালে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং ২০০২ সালে অবসর সুবিধা বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষকদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকতা এমন একটি পেশা, যার মাধ্যমে অন্য সব পেশার মানুষের ভিত্তি তৈরি হয়। অবসরের পরও সমাজে শিক্ষকদের দায়িত্ব শেষ হয় না। ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শিক্ষকরা সমাজে আলোর পথ দেখাবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।