মাদক চোরাচালান ও অবৈধ মাদকের বিস্তার রোধে সরকার আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, দেশের শীর্ষ মাদক কারবারিদের একটি নিরপেক্ষ তালিকা প্রস্তুত করা হবে এবং সেই তালিকার ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার রাতে কক্সবাজার হিল ডাউন সার্কিট হাউজে জেলা মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নবিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রগুলোকে চিহ্নিত করতে একটি টাস্কফোর্স কাজ করবে। কোনো ধরনের পক্ষপাত ছাড়াই তাদের তালিকা তৈরি করা হবে এবং সরকারের পরবর্তী অভিযান ও আইনি পদক্ষেপ সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে।
তিনি আরও বলেন, মাদক পাচারের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে যৌথ বাহিনী ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে নতুন ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নদীপথ ও সমুদ্রপথে মাদক চোরাচালান ঠেকাতে নৌবাহিনী এবং কোস্টগার্ডের টহল আরও জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, টেকনাফ ও উখিয়া এলাকার জেলে এবং নৌযান নিবন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে বৈধ জেলে ও নৌযান শনাক্ত করা সহজ হবে এবং মাদক পাচারে জড়িতদের চিহ্নিত করাও সহজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় অপহরণ প্রতিরোধের বিষয়েও সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ওই অঞ্চলে দুটি নিরাপত্তা ক্যাম্প স্থাপনের প্রস্তাব সেনাবাহিনীর কাছে দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিভিন্ন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশাসনের প্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, আগামীকাল কক্সবাজারে একাধিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সকাল ১০টায় তিনি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) কার্যালয় পরিদর্শন করবেন। পরে কউকের ‘ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১’-এর উদ্বোধন করবেন এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে রাতে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে।