বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্রুত কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তন আনছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, মেশিন তাদের চাকরি কেড়ে নেবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু নির্দিষ্ট মানবিক ও জটিল দক্ষতা অর্জন করলে এআই কখনোই মানুষের বিকল্প হতে পারবে না।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই সময়ে প্রযুক্তি যেমন সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলছে, তেমনি কর্মসংস্থান নিয়ে তৈরি করছে অনিশ্চয়তা। ব্যাংকিং, গণমাধ্যম, গ্রাহকসেবা থেকে শুরু করে সৃজনশীল খাতেও এআই-এর ব্যবহার বাড়ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, মানুষের ভূমিকা কোথায় দাঁড়াবে?
বিশ্লেষকদের মতে, এআই মূলত ডেটা-নির্ভর এবং পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলো দ্রুত ও নির্ভুলভাবে করতে সক্ষম। কিন্তু মানুষের যে গুণগুলো গভীরভাবে মানবিক, সেগুলো এখনো প্রযুক্তির নাগালের বাইরে। আর এই জায়গাতেই ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে মানুষের টিকে থাকার সুযোগ সবচেয়ে বেশি।
প্রথমত, সমস্যা সমাধানের সৃজনশীল ক্ষমতা। এআই নির্দিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু জটিল ও অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে নতুন সমাধান খুঁজে বের করা এখনো মানুষের বিশেষত্ব। নতুন ধারণা তৈরি, ভিন্নভাবে চিন্তা করা, এসবই কর্মক্ষেত্রে মূল্যবান হয়ে উঠছে।
দ্বিতীয়ত, ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা আবেগগত বুদ্ধিমত্তা। সহকর্মী, গ্রাহক বা দলের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি ও বজায় রাখতে মানুষের অনুভূতি বোঝার ক্ষমতা অপরিহার্য। এআই তথ্য দিতে পারে, কিন্তু সহানুভূতি দেখাতে পারে না।
তৃতীয়ত, যোগাযোগ দক্ষতা। শুধু কথা বলা নয়, বরং স্পষ্টভাবে ধারণা প্রকাশ, শ্রোতার মনোভাব বুঝে বক্তব্য উপস্থাপন, এসবই গুরুত্বপূর্ণ। নেতৃত্ব, দরকষাকষি বা দল পরিচালনায় এই দক্ষতা অপরিহার্য হয়ে উঠছে।
চতুর্থত, অ্যাডাপ্টেবিলিটি বা পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। প্রযুক্তি দ্রুত বদলাচ্ছে, ফলে নতুন পরিবেশে দ্রুত নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারা একটি বড় শক্তি। যারা নতুন কিছু শেখার আগ্রহ রাখেন, তারাই এগিয়ে থাকবেন।
পঞ্চমত, নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা। এআই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কিন্তু তার নৈতিকতা নির্ধারণ করে মানুষই। ব্যবসা, চিকিৎসা বা প্রশাসনে এই মানবিক বিচারবোধ অপরিহার্য।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী দশকে অনেক পুরোনো চাকরি হারিয়ে গেলেও নতুন ধরনের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তির সঙ্গে মানবিক দক্ষতার সমন্বয় যাদের আছে, তাদের চাহিদা বাড়বে।
বাংলাদেশেও ফ্রিল্যান্সিং, আইটি এবং সেবা খাতে এআই ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। তবে স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রযুক্তি জানা নয়, মানুষের সঙ্গে কাজ করার দক্ষতাই দীর্ঘমেয়াদে সফলতার চাবিকাঠি হবে।