ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র গুরুতর গোলাবারুদের সংকটে পড়েছে। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে অস্ত্র ও গোলাবারুদের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনকে সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপক গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। ফলে দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগ এখন দ্বিধায় পড়েছে, কোন ক্ষেত্রে সামরিক শক্তি সক্রিয়ভাবে বজায় রাখা হবে আর কোথায় সীমিত করা হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শিল্প জটিল আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও উৎপাদন সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত নতুন সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে না। এতে করে যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের সংকটকে অনেক দেশ কৌশলগত দুর্বলতা হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে রাশিয়া ও চীন এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তারা মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় মিত্ররা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ন্যাটো জোটের কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে, তবে তা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
দেশের ভেতরে ট্রাম্প প্রশাসন রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। একদিকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা, অন্যদিকে গোলাবারুদের সংকট, এই দ্বন্দ্বে সিদ্ধান্তহীনতা দেখা দিয়েছে। কংগ্রেসে বিরোধী দলগুলো বলছে, অপ্রয়োজনীয় সংঘাতে জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে প্রশাসনের ভেতরে অনেকেই মনে করছেন, সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে হলে দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে হবে এবং নতুন কৌশল গ্রহণ করতে হবে।