মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটির পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব হিসেবে এই পাল্টা অভিযান চালানো হয়েছে। বুধবার জর্ডানের আল-আজরাক এলাকায় অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামলায় ঘাঁটির রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত স্থাপনা, যুদ্ধবিমান রাখার স্থান এবং বিমান আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে জর্ডানকে লক্ষ্য করে ছোড়া ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে।
এর আগে ইরান জানিয়েছিল, কুয়েত ও বাহরাইনের উপকূলে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলোও তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এসব জাহাজের ক্রুদের দ্রুত সরে যাওয়ার জন্য সতর্কও করা হয়।
এদিকে সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বুধবার অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ৯৯ দশমিক ৩৮ ডলার এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৯৪ দশমিক ৫১ ডলারে ওঠে।
সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালীতেও জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরান আরও দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালী থেকে একটি মার্কিন মানববিহীন সাবমেরিন ড্রোন জব্দ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দাবি, ড্রোনটি পুরোনো মডেলের এবং কারিগরি ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছিল।