পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় তাৎক্ষণিক কোনো বড় ধরনের সমঝোতা না হলেও, উভয় পক্ষের সরাসরি সংলাপে বসাকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা বৈঠকে চূড়ান্ত চুক্তি না হলেও বেশ কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রগুলো বলছে, আলোচনার সময় উভয় পক্ষ লিখিত প্রস্তাব ও খসড়া নথি বিনিময় করেছে, যা ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা সীমিত করা এবং বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদের একটি অংশ মুক্তির বিষয়েও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে বলে খবর মিলেছে।
তবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থন—এমন কয়েকটি জটিল ইস্যুতে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ফলে তাৎক্ষণিক কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা সীমিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে যে গভীর অবিশ্বাস ও বৈরিতা তৈরি হয়েছে, তা স্বল্প সময়ের আলোচনায় দূর হওয়া বাস্তবসম্মত নয়। বরং সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি, ধাপে ধাপে আস্থা তৈরির প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এগোতে হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক উন্নয়নের পথে ইসরায়েল বড় রাজনৈতিক ফ্যাক্টর হিসেবে থেকে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্য—যেখানে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন—তা আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
তবুও কূটনৈতিক মহলের মতে, ইসলামাবাদ বৈঠকের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো দুই প্রতিপক্ষের সরাসরি সংলাপ পুনরায় শুরু হওয়া। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের একটি নতুন পথ তৈরি হতে পারে।