ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নতুন প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তেহরান সফরের সময় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এই প্রস্তাব ইরানের কাছে তুলে ধরেন। তবে প্রস্তাবের বিস্তারিত বিষয় প্রকাশ করা হয়নি এবং ইরান এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা—সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট গভীর। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের মধ্যস্থতা নতুন আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে ইরান স্পষ্ট করেছে, ভবিষ্যতে আলোচনা এগোতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অতিরিক্ত দাবি’ পরিহার করে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থান নিতে হবে।
জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবের বিষয়বস্তু নিয়ে এখনো অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। ইরান মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি বাস্তবসম্মত প্রস্তাব না দেয়, তবে আলোচনার অগ্রগতি সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের এই অবস্থান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করার কৌশল, যাতে তারা আলোচনায় নমনীয় হয়।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার দাবি জানিয়ে আসছে। ওয়াশিংটন চাইছে, ইরান যেন আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তির শর্ত মেনে চলে এবং আঞ্চলিক সংঘাতে তাদের ভূমিকা কমায়। তবে ইরান বলছে, তাদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না।
কূটনৈতিক মহল মনে করছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতা দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ফলে তাদের মধ্যস্থতা উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত এবং ইরান কতটা নমনীয় হবে।