বাংলাদেশে এক মাসের ব্যবধানে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য বলছে, বুধবার পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে প্রাণ হারিয়েছে ১৬৬ শিশু, আর আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৯ হাজার।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়—বরং এটি প্রাদুর্ভাবের পর্যায়ে চলে গেছে। এই বাস্তবতায় হাসপাতালগুলোতে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড ও পর্যাপ্ত আইসিইউ সুবিধা প্রস্তুত রাখার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।
তবে এই সংকট শুধু বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ উন্নত দেশগুলোতেও নতুন করে হামের সংক্রমণ বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগেই সতর্ক করেছিল, টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের পুনরুত্থান ঘটছে।
একইভাবে চিকিৎসা বিষয়ক জার্নাল দ্যা ল্যানসেট জানিয়েছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাম প্রাদুর্ভাব রেকর্ড করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, কোভিড-১৯ মহামারির সময় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে। এর পাশাপাশি কিছু দেশে টিকাবিরোধী প্রচারণাও সংক্রমণ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও স্পষ্ট। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি নিয়মিত চালু না থাকায় বড় একটি শিশুগোষ্ঠী টিকা পায়নি। সেই সঙ্গে টিকা সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতাও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
বর্তমান অবস্থা সামাল দিতে গত ৫ এপ্রিল থেকে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে, যাতে দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।