অসুস্থ শরীর সারিয়ে তুলতে আমরা চোখ বুজে ভরসা করি ওষুধের ওপর। কিন্তু এই জীবনরক্ষাকারী ওষুধই যদি উল্টো আপনার প্রাণ সংশয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়?
সম্প্রতি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক তথ্য, সাধারণ জ্বর বা ব্যথানাশক ওষুধ থেকেও শরীরে দানা বাঁধতে পারে মারাত্মক অ্যালার্জি, যা অবহেলা করলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয় 'ড্রাগ রিঅ্যাকশন'। আমরা যখন কোনো ওষুধ গ্রহণ করি, আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম অনেক সময় সেই ওষুধের কোনো উপাদানকে ভুলবশত ক্ষতিকর 'শত্রু' হিসেবে গণ্য করে। ফলে শরীর তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে অ্যালার্জির মাধ্যমে। অনেক সময় দেখা যায়, আগে যে ওষুধ খেয়ে কোনো সমস্যা হয়নি, হঠাৎ করেই শরীর তার প্রতি অসহনশীল হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধের এই বিরূপ প্রতিক্রিয়া কেবল সাধারণ চুলকানি বা ত্বকে লাল চাকা হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্থায়ী ক্ষতিও করতে পারে। তাই ওষুধ খাওয়ার পর শরীরে সামান্যতম অস্বস্তিকেও অবহেলা করার সুযোগ নেই।
ওষুধের অ্যালার্জি সাধারণত দুই ধরনের হয়। একটি ওষুধ খাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে দেখা দেয়, অন্যটি দেখা দিতে পারে কয়েক দিন পর। প্রাথমিক অবস্থায় ত্বকে রেশ ওঠা, চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া বা অনবরত হাঁচি-কাশি হতে পারে। তবে সবচেয়ে ভয়ংকর হলো 'অ্যানাফিল্যাক্সিস' (Anaphylaxis)। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যায় এবং শ্বাসনালী সংকুচিত হয়ে রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে এটি কয়েক মিনিটের মধ্যে মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে।
এছাড়াও স্টিভেনস-জনসন সিনড্রোম (SJS)-এর মতো বিরল কিন্তু ভয়াবহ চর্মরোগও কিছু বিশেষ ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা দিতে পারে। এতে শরীরের চামড়া পুড়ে যাওয়ার মতো ফোসকা পড়ে আলগা হয়ে যায়।
নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হলো যা আপনার বা আপনার প্রিয়জনের জীবন বাঁচাতে পারে:
মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো নতুন ওষুধ শুরু করার পর অন্তত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা শরীরের পরিবর্তনের দিকে কড়া নজর রাখা উচিত। যদি আপনার অ্যালার্জির ইতিহাস থাকে, তবে সবসময় সাথে একটি 'মেডিকেল অ্যালার্ট' কার্ড বা প্রেসক্রিপশনের কপি রাখা জরুরি, যাতে জরুরি অবস্থায় চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন আপনাকে কোন ওষুধ দেওয়া যাবে না।
প্যারাসিটামলের মতো সাধারণ ওষুধও সবার শরীরের জন্য নিরাপদ নাও হতে পারে। তাই দোকানদারের পরামর্শে বা নিজে নিজে 'সেলফ মেডিকেশন' করার অভ্যাস ত্যাগ করা এখন সময়ের দাবি।