রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট মোকাবিলা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে।
মস্কোতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে আন্তর্জাতিক মহল বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক চরম উত্তেজনায় পৌঁছেছে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়ছে, অন্যদিকে ইরান তার কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ইরানের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বৈঠকে পুতিন ও আরাঘচি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, বিশেষ করে গাজা ও লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতি অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে।
রাশিয়া ও ইরান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনীতি, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রযুক্তি সহযোগিতা জোরদার করছে। বৈঠকে দুই দেশের নেতারা এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে একমত হন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া-ইরান সম্পর্ক শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের চাপ মোকাবিলায় ইরান রাশিয়ার সমর্থনকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করতে চাইছে।
এই বৈঠককে পশ্চিমা দেশগুলো সতর্ক দৃষ্টিতে দেখছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মনে করছেন, রাশিয়া ও ইরানের ঘনিষ্ঠতা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন জোট গঠনের ইঙ্গিত হতে পারে। অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষক বলছেন, এই সম্পর্ক মূলত প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য, যা সরাসরি যুদ্ধ পরিস্থিতিকে প্রভাবিত নাও করতে পারে।
রাশিয়া ও ইরানের এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইরান রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘনিষ্ঠতা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলে দেবে।